পরিত্যক্ত জমি থেকে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগে ব্রাহ্মণপাড়ায় গড়ে উঠেছে ‘কলেজপাড়া’

একসময় যে জমিগুলো পড়ে থাকত অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায়, সেখানেই এখন দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বহুতল ভবন। গড়ে উঠেছে বসতি, মসজিদ, সড়ক ও নানা নাগরিক সুবিধা। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামের সেই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি নাম—শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

২০১৫ সালের দিকে ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের এলাকায় পরিকল্পিত আবাসিক বসতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এই আবাসিক এলাকার নাম দেওয়া হয় ‘কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা’।

শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। এলাকাটি ছিল অনেকটাই অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিনির্ভর। পানির সংকটসহ নানা কারণে এসব জমিতে নিয়মিত কৃষিকাজও করা সম্ভব হতো না বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সেই জমিকে বসবাসের উপযোগী ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপ দেওয়ার চিন্তা থেকেই আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলেও মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি। স্থানীয়ভাবে তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু এবং মিজানুর রহমান। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য স্থানীয় ব্যক্তিরাও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কলেজপাড়া আবাসিক এলাকায় বাড়তে থাকে বসতি। নির্মিত হতে থাকে বহুতল ভবন। বর্তমানে সেখানে ব্রাহ্মণপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ বসবাস করছেন বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক পরিবেশ এবং নিরাপদ বসবাসের কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

শুধু আবাসিক এলাকা নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অবদান

সহযোগিতায় ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও

পরিবর্তনের সাক্ষী কলেজপাড়া

কলেজপাড়া আবাসিক এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগেও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের জন্য তিনি নিজস্ব জায়গা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জায়গাটির বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য।

এখানেই শেষ নয়। মসজিদ নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে তিনি আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে জমির পরিমাণ ও বাজারমূল্যের বিষয়টি দলিলপত্র ও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বাজারদর দিয়ে যাচাই করে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দিক থেকে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে।

কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার বিভিন্ন পর্যায়ে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, অ্যাডভোকেট শাহজাহান, অধ্যক্ষ মোঃ আলতাফ হোসেন, প্রভাষক মোমেন, প্রভাষক নেছার আহাম্মেদ, মরহুম মাজেদ খান, জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ, শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একটি পরিত্যক্ত এলাকাকে বসবাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর ভূমিকা রয়েছে।

একসময় যেখানে বসতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল সীমিত, বর্তমানে সেই এলাকাতেই দৃশ্যমান হয়েছে নগরায়ণের ছাপ। নতুন নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে, বাড়ছে মানুষের বসবাস। আবাসিক এলাকার পরিধিও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা শুধু কয়েকটি ভবনের সমষ্টি নয়; এটি একটি দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফল। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এলাকাটিতে নাগরিক সুবিধা, সড়কব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীও ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয়দের কাছে তাঁর পরিচয় তাই শুধু একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা বা সমাজসেবক হিসেবে নয়; বরং একটি পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিকে বসবাসের উপযোগী এলাকায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত হয়ে গেছে।

কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা এখন সেই পরিবর্তনের দৃশ্যমান উদাহরণ—যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিত্যক্ত জমির জায়গা নিয়েছে মানুষের বসতি, আর একটি উদ্যোগ ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে একটি নতুন আবাসিক জনপদে।