গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়াবাসার তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, এটিএম কার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছাঃ নুপুর বেগম (৪১) নামে এক নারী দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে নুপুর বেগম উল্লেখ করেন, তিনি ছেলে মোঃ লিখনকে নিয়ে কলমেশ্বরের মিবাতুল কোরআন মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ে শাহ আলমের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। গত ১ আগস্ট তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাকে তার নিজ বাড়িতে বেড়াতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাসায় না থাকার সুযোগে মোঃ শহিদ শেখ (৪৫), পিতা-মোঃ শামচুল শেখ, সাং-কলমেশ্বর, মিবাতুল কোরআন মাদ্রাসা বিল্ডিং, ওয়ার্ড নং-৩৫, থানা-গাছা, গাজীপুর মহানগর এবং মোঃ তন্ময় (৩০), পিতা-মোঃ জহিরুল ইসলাম বাদল, সাং-কুনিয়া বড়বাড়ী, ওয়ার্ড নং-৩৭, থানা-গাছা, গাজীপুর মহানগরসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন লোহার রড, হাতুড়ি, প্লাসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে তার ভাড়াবাসার মূল দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে তারা শয়নকক্ষে থাকা স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণের একটি লেকনেস, ওজন আনুমানিক সাড়ে ৩ ভরি, মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা; এক জোড়া স্বর্ণের কানের ঝুমকা, অভিযোগে উল্লেখিত ওজন ৩১ ভরি ২ আনা, মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা; এক জোড়া হাতের রুলি, ওজন আনুমানিক ১ ভরি, মূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং এটিএম কার্ডসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নুপুর বেগম।
এ সময় বাসার একটি মার্সেল কোম্পানির ফ্রিজ ভাঙচুর করে প্রায় ৪৮ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নুপুর বেগম জানান, পরে মোবাইল ফোনে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বাসায় এসে দেখেন মূল গেটের তালা ভাঙা। শয়নকক্ষে প্রবেশ করে বিছানাপত্র এলোমেলো এবং স্টিলের আলমারির দরজা ও ড্রয়ারের তালা ভাঙা দেখতে পান। আলমারি ও ড্রয়ারে রাখা উল্লেখিত মালামালও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিযোগকারী নুপুর বেগমের পিতা মৃত আলতাফ মোল্লা ও মাতা মোছাঃ মিনারা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা—সাং-মৌচাক চেয়ারম্যান বাড়ী, থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজীপুর। বর্তমান ঠিকানা—কলমেশ্বর, মিবাতুল কোরআন মাদ্রাসা বিল্ডিং, শাহ আলমের বাসার ভাড়াটিয়া, ওয়ার্ড নং-৩৫, থানা-গাছা, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।