মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ছবি রানী রায়ের স্বামী রিপেন চন্দ্র রায়। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুন তার স্কুলছাত্রী মেয়ে পল্লবী রানী রায়কে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের দুজারপুর গ্রামের আনন্দ রায়ের ছেলে গৌর চন্দ্র রায় ঢাকায় চলে যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ২৬ জুন তাদের উদ্ধার করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

রিপেন চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, পরবর্তীতে গৌর চন্দ্র রায় পল্লবীর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে তাদের দুজনের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এর ফলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তার মেয়ে পল্লবী রানী রায় (১৪) এবং স্ত্রী ছবি রানী রায় (৩৫)। তার দাবি, এ ঘটনার জেরে গত ১৫ জুলাই তারা নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ছবি রানীর ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন স্বজন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করছেন। এতে শোকাহত পরিবার আরও মানসিক চাপে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।