ডিমলা শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন; শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সরকারিকরণের আশ্বাস

 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চাপানীহাট বাজারে অবস্থিত শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার শাহীন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু। এতে সভাপতিত্ব করেন শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডিমলা ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার শাহীন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, “একটি জাতির অগ্রগতির প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজকে একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কলেজটিকে দ্রুত সরকারিকরণের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কলেজটি সরকারিকরণের লক্ষ্যে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেহেনা আক্তার রানু বলেন, শিক্ষার প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে কলেজটি সরকারিকরণের দাবিকে অত্যন্ত যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক পদক্ষেপ কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কলেজটি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। কলেজের উন্নয়ন ও সরকারিকরণের জন্য অতীতেও বিভিন্ন পর্যায়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় কলেজটি দ্রুত সরকারিকরণসহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান লিংকন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ রবিউল আলম, মোঃ রুহুল আমীন, মোঃ জিয়াউর রহমান, মোছাঃ শিউলি বেগমসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে অতিথিরা নবনির্মিত ভবনের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং কলেজের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, নতুন এই একাডেমিক ভবন কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কলেজটি সরকারিকরণ করা হলে ডিমলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আরও উন্নত ও সহজলভ্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।