আগস্ট ‘বিশ্ব স্কাউট স্কার্ফ ডে’: আত্মিক ঐক্য ও সেবার ব্রতে উদ্ভাসিত বিশ্ব স্কাউটিং

 

মোছাঃ হিরা মনি বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার আমজুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। অল্প অল্প করে সাজানো স্বপ্নের পথে হাঁটি হাঁটি পা পা করে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছেন।

আজ ১ আগস্ট—বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে স্কাউট আন্দোলনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন ‘বিশ্ব স্কাউট স্কার্ফ ডে’ (World Scout Scarf Day)। স্কাউটিং আন্দোলনের সাথে যুক্ত বর্তমান ও সাবেক সকল সদস্যের কাছেই দিনটি অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গৌরবের। বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি স্কাউট সদস্য এই দিনে তাঁদের পরিচয় ও শপথের প্রতীক হিসেবে প্রকাশ্যে স্কাউট স্কার্ফ (নেকারচিফ) পরিধান করেন।

১৯০৭ সালের এই দিনে (১ আগস্ট) ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা লর্ড রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েল ইংল্যান্ডের ‘ব্রাউনসি দ্বীপে’ (Brownsea Island) ইতিহাসের প্রথম স্কাউট ক্যাম্পের সূচনা করেছিলেন। স্কাউটিং আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং এর মূল নীতি ও আদর্শকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছর ১ আগস্টকে ‘বিশ্ব স্কাউট স্কার্ফ ডে’ হিসেবে পালন করা হয়।

স্কাউটদের গলায় জড়ানো এই বিশেষ স্কার্ফটি কেবল পোশাকের অংশ নয়, এটি:

প্রতিজ্ঞার প্রতীক: স্কাউট প্রতিজ্ঞা ও নিয়মের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রকাশের চিহ্ন।

বিশ্বজনীন ঐক্য: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের স্কাউটদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মিক সম্পর্কের বন্ধন।

সেবা ও নেতৃত্ব: নিঃস্বার্থ মানবকল্যাণে সর্বদা প্রস্তুত থাকার মানসিকতা ও নেতৃত্বের।

প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে বর্তমান ও প্রবীণ স্কাউটরা নিজেদের কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা দৈনন্দিন চলাফেরার সময় স্কাউট স্কার্ফ পরিধান করেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—

১. স্কাউটিংয়ের চেতনা, মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া।

২. বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্কাউট ভাই-বোনদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

স্কাউটিংয়ের মূল চালিকাশক্তি ‘সব সময় প্রস্তুত’ (Be Prepared)—এই মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে আত্মমানবতার সেবায় বিশ্বব্যাপী স্কাউটরা নিজেদের নিয়োজিত রাখার নতুন শপথ গ্রহণ করছেন এই দিনে।