রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে দুই ব্যক্তিকে আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক হামলা ও জিম্মিদশার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের অস্ত্রের মুখে ভয় দেখানো, একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং সঙ্গে থাকা মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে অনুসন্ধানী একটি টিমের কাছে মুঠোফোনে অভিযোগ আসে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের ভেতরে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।
অভিযোগের পর মোহাম্মদপুর থানার এসআই আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পুলিশের সঙ্গে তিনজন সংবাদকর্মীও ছিলেন।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা।
তবে ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে তিন সংবাদকর্মীকে ঘিরে ফেলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, তাদের ক্যাম্পের ভেতরে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, আটকে রাখার সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বিক্রি, ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্যাম্পের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে।হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও আইসসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটির স্বাধীন যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে ক্যাম্পের ভেতরে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগও মাঝেমধ্যে সামনে আসে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দুই ব্যক্তিকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।