গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় এক ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিং ও নির্যাতন চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে (‘হানি ট্র্যাপ’) তরুণ-তরুণী ও পথচারীদের জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল ওয়াজউদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়ার মূল কাজ।
গত ১৫ আগস্ট মাওনা চৌরাস্তার মোবাইল ব্যবসায়ী নাসির মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। তাকে আহত অবস্থায় খোকন মিয়ার বাড়িতে তুলে নিয়ে চালিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। খুলে ফেলা হয় পরনের কাপড়, ছিনিয়ে নেওয়া হয় আইফোন ও ওয়ানপ্লাস মোবাইল। পরবর্তীতে বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণ নিয়ে ফেরেন তিনি। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
নাসিরের ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা খোকনের বাড়ির ওপর কড়া নজর রাখছিলেন। আজ দুপুরের দিকে রহস্যজনকভাবে চারজন তরুণ-তরুণীকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখে সন্দেহ হলে পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলেন এলাকাবাসী।
খোকন মিয়া কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ আটকে পড়া তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন ক্ষুব্ধ জনতা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তল্লাশিতে খোকনের ঘর
ব্যবসায়ী নাসিরের ছিনতাই হওয়া ১টি দামি মোবাইল।
নাসিরের রক্তমাখা জামাকাপড়সহ আরও ৪ জনের ছেঁড়া পোশাক।
নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার।
একাধিক মানিব্যাগ, খালি মোবাইল কভার ও মাদকের সরঞ্জাম।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়িতে মাদকের ব্যবসা চললেও এটি যে একটি জঘন্য টর্চার সেল, তা নাসিরের ঘটনার পর স্পষ্ট হয়। শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পলাতক মূল অভিযুক্ত খোকনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।