ঢাকার আশুলিয়ায় অবৈধ মাটি কাটার কথা বলে উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক’ বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, একটি অসাধু চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজির সুযোগ না পেয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঘটনার আসল সত্যতা উন্মোচন করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মূল ঘটনার সূচনা একটি চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, গত কাল এক মাটি ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে।

ওসির নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। উক্ত টিমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন এসআই সুমন মিয়া।

ওসি আরও স্পষ্ট করেন, “পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকেই উপস্থিত পায়নি। সরকারি ডিউটির অংশ হিসেবেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে বা কাউকে হুমকি দিতে নয়।”

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করে এসআই সুমন জানান, একটি অসাধু সাংবাদিক নামধারী চক্র তার কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে মিডিয়া ও প্রশাসনিকভাবে হেয় করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তারা মনগড়া গল্প বানিয়ে সংবাদ প্রচার করে।

গভীর রাতে বাড়িতে লোক পাঠানো কিংবা সন্তানকে ‘এতিম করার’ হুমকির অভিযোগকে বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি বলেন:

শতভাগ সরকারি দায়িত্ব ও থানার অফিসিয়াল নির্দেশেই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

অবৈধ মাটি কাটা বা যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে আসছেন।

ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর কোনো সত্যতা নেই।

এমন হয়রানিমূলক অপপ্রচারে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে এসআই সুমন বলেন, “আমি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পুলিশি দায়িত্ব পালন করছি। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। আমি সাধারণ দেশবাসী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই চক্রান্তের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ইনসাফ চাই।”

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঠিকাদারের দেওয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পাল্টা অভিযোগ—উভয় বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।