নিউজ ডেস্ক
জীবনে কিছু মানুষ থাকেন বৃক্ষের মতো। তাঁরা নিজের জন্য খুব বেশি কিছু চান না; বরং অন্যদের রোদ থেকে বাঁচাতে নিজের ছায়াটুকু বিলিয়ে দেন। ঝড় এলে নিজের ডালপালা ভাঙার ভয় করেন না, শুধু আগলে রাখেন আপনজনকে। অথচ সেই বৃক্ষটি যখন একদিন বৃদ্ধ হয়ে যায়, তখন তার ছায়ার নিচে বড় হয়ে ওঠা অনেকেই ভুলে যায়—এই ছায়ার পেছনে কত ত্যাগ, কত নির্ঘুম রাত আর কত না বলা কষ্ট জমে ছিল।
একটি বাড়ির উঠোনে বহু বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল একটি পুরোনো বৃক্ষ। বৃক্ষটি খুব বড় কোনো গাছ ছিল না, কিন্তু তার ছায়া ছিল অনেক দূর পর্যন্ত। বাড়ির ছোট ছোট চারাগাছগুলো যখন রোদে পুড়ে যেত, তখন সেই বৃক্ষই তাদের মাথার ওপর ছায়া মেলে দাঁড়াত। ঝড় এলে নিজের ডালপালা ভেঙে তাদের আগলে রাখত। কখনো নিজের শিকড়ের কাছে জমে থাকা জলও তাদের দিয়ে দিত। চারাগাছগুলো তখন কিছুই বুঝত না। তারা শুধু জানত—রোদ এলে ছায়া আছে, ঝড় এলে আশ্রয় আছে, বিপদ এলে কেউ একজন পাশে দাঁড়াবে। তারা জানত না, সেই ছায়ার পেছনে কত রাত জেগে থাকা, কত ঝড় সহ্য করা এবং কত নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দেওয়ার ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
সময় চলে গেল। চারাগাছগুলো বড় হলো। কেউ লম্বা হলো, কেউ ছড়িয়ে পড়ল, কেউ ফুল দিল, কেউ ফল দিল। আর পুরোনো বৃক্ষটি ধীরে ধীরে আরও বৃদ্ধ হলো। এই বাড়িতে একসময় একজন মানুষ ছিলেন, যিনি সবাইকে একসঙ্গে ধরে রাখতেন। তাঁর কাছে সন্তানদের মধ্যে বড়-ছোট, বেশি-কম—এসবের চেয়ে পরিবারের বন্ধনই ছিল বড়। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল সেই মানুষটিকে নিয়ে, যিনি তখনও জীবিত এবং যাঁর ছায়ায় সন্তানরা এখনও আশ্রয় পায়। তিনি বলে গিয়েছিলেন—যতদিন সেই মানুষটি বেঁচে থাকবেন, তাঁর প্রয়োজনের জায়গায় যেন কেউ স্বার্থের হাত না বাড়ায়। পরিবারের ছোটদের যেন বড়রা দেখে রাখে। আর যাদের সঙ্গে জীবনে অনেক তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তাদের থেকে নিজের শান্তির জন্য কিছুটা দূরত্ব রাখা হয়তো ভালো। কথাগুলো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো মানুষের শেষ কথাই একদিন জীবনের সবচেয়ে ভারী দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
তারপর একদিন সেই মানুষটিও চলে গেলেন। বাড়ির উঠোনটা তখনও ছিল, ঘর ছিল, গাছগুলোও ছিল; কিন্তু যে মানুষটি সবাইকে একসঙ্গে ধরে রেখেছিলেন, তিনি আর ছিলেন না। আর তখন থেকেই যেন উঠোনের বাতাস বদলে গেল। যে চারাগাছগুলো একসময় একই ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা নিজেদের মধ্যে জায়গার হিসাব শুরু করল। কে কতটুকু মাটি পাবে, কে কতটুকু আলো পাবে, কোন ডাল কার দিকে যাবে—এসব নিয়ে শুরু হলো হিসাব-নিকাশ। কেউ কেউ ভুলে গেল, একদিন এই উঠোনে তাদের কোনো শক্ত শিকড় ছিল না। কেউ মনে রাখল না, তাদের প্রথম ছায়াটা কোথা থেকে এসেছিল।
আর সেই পুরোনো বৃক্ষটি? সে নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তার ডালে হয়তো আর আগের মতো পাতা নেই, কিন্তু তার মনে এখনও সেই দিনগুলোর ছবি জীবন্ত—যখন ছোট ছোট চারাগাছগুলো তার ছায়ার নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমাত। বৃক্ষটি কাউকে কোনোদিন হিসাব দেয়নি। কতটা ছায়া দিয়েছে, কতটা জল দিয়েছে, কত ঝড় নিজের শরীরে নিয়েছে—কোনো খাতায় লেখেনি। কারণ সে জানত, ভালোবাসার হিসাব করলে ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকে না; তা একসময় পাওনা-দেনার খাতায় পরিণত হয়। সে শুধু মনে মনে বলত, “আমি তো তোমাদের কাছে কোনোদিন কিছু চাইনি। তোমরা বড় হয়ে আমাকে মনে রাখবে—এই আশাটুকুও আমার ছিল না। শুধু চেয়েছিলাম, তোমরা যেন একে অপরের পাশে থাকো।”
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চারাগাছগুলোর কিছু ডাল এমন মানুষের দিকে ঝুঁকে গেল, যারা একদিন এই উঠোনের বৃক্ষটিকে আঘাত করেছিল। যাদের ছায়া একসময় এই পরিবারের জন্য অন্ধকার হয়ে এসেছিল, তাদের সঙ্গেও নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হলো। বৃক্ষটি তবুও কিছু বলল না। কারণ সে জানত, মানুষের সম্পর্ক বদলাতে পারে, কিন্তু নিজের শিকড়ের ইতিহাস বদলায় না।
সে এটাও জানত—মানুষকে জোর করে ভালোবাসানো যায় না। কাউকে তার অতীত মনে করিয়ে দিয়ে সারাজীবন নিজের প্রতি কৃতজ্ঞ রাখা যায় না। আর ভালোবাসা যদি নিজের মূল্য প্রমাণ করার জন্য প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দিতে হয়, তাহলে সেই ভালোবাসার সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়ে যায়। কিছু সম্পর্ককে ধরে রাখতে হয় না; কখনো কখনো দূরত্বই সম্পর্কের শেষ সম্মানটুকু বাঁচিয়ে রাখে।
একদিন এক পথিক সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে দেখল, উঠোনে অনেক গাছ, কিন্তু তাদের মধ্যে যেন অদৃশ্য দেয়াল। পথিক বৃদ্ধ বৃক্ষটির কাছে গিয়ে বলল, “তুমি এত চুপ কেন?” বৃক্ষটি মৃদু হেসে বলল, “আমি চুপ নই। আমি শুধু জানি, কিছু কথা মুখে বললে ছোট হয়ে যায়।” পথিক বলল, “তোমার তো অনেক কষ্ট।” বৃক্ষটি বলল, “কষ্ট আছে। অভিমানও আছে। কিন্তু প্রতিশোধ নেই।” পথিক জানতে চাইল, “কেন?” বৃক্ষটি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, “কারণ যারা একদিন আমার ছায়ায় বড় হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমি নিজেকেই ছোট করতে চাই না।”
পথিক আবার জিজ্ঞেস করল, “তোমার তাহলে কোনো দাবি নেই?” বৃক্ষটি দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “দাবি থাকলে হয়তো এতদিনে অনেক কিছু চাইতে পারতাম। কিন্তু আমি কোনো সম্পদের মালিক হতে চাই না। কোনো ডালের মালিকানা চাই না। এই মাটির মালিকানাও চাই না। শুধু চাই, যে মানুষটি আমাদের সবাইকে একদিন একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর স্মৃতিটুকু যেন কেউ স্বার্থের কাছে বিক্রি না করে। আর যে মানুষটি এখনও এই উঠোনে বেঁচে আছেন, তাঁর শেষ দিনগুলো যেন সন্তানদের হিসাবের খাতায় না কাটে।”
পথিক তখন বুঝতে পারল, বৃদ্ধ বৃক্ষটি আসলে কোনো সম্পদের কথা বলছে না। সে বলছে মায়ার কথা। সে বলছে মায়ের কথা। সে বলছে সেই ঘরের কথা, যেখানে একসময় ভাই-বোনেরা একই ছাদের নিচে বড় হয়েছিল।
বৃক্ষটি বলল, “আমি যতদিন পারি, এই উঠোনে থাকব। যতদিন আমার ছায়ায় কেউ একটু শান্তি পায়, ততদিন থাকব। কিন্তু যেদিন বুঝব, আমার উপস্থিতিই কারও কাছে বোঝা হয়ে গেছে, সেদিন আমি চলে যাব।” পথিক জিজ্ঞেস করল, “কোথায় যাবে?” বৃক্ষটি দূরের দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বলল, “যতদূর চোখ যায়, সেখানেই। সঙ্গে নেব শুধু কয়েকটি স্মৃতি—একজন মানুষের শেষ কথার স্মৃতি, একজন মায়ের ভালোবাসার স্মৃতি, আর সেই ছোট ছোট চারাগাছগুলোর স্মৃতি, যাদের জন্য জীবনের অনেকটা সময় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।”
পথিক চুপ করে রইল। বৃক্ষটি আবার বলল, “জানো, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল কী?” পথিক বলল, “কী?” বৃক্ষটি বলল, “আমরা অনেক সময় ভাবি, সম্পদ থাকলে পরিবার টিকে থাকে। অথচ পরিবার টিকে থাকে মায়ায়। সম্পত্তি মানুষকে একই উঠোনে রাখতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে একই উঠোনেও মানুষ একে অপরের কাছে পর হয়ে যায়।”
“আর সবচেয়ে বড় দুঃখ?”—পথিক জানতে চাইল।
বৃক্ষটি বলল, “যখন মানুষ বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদের হিসাব করতে গিয়ে বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পর্কটাকেই হারিয়ে ফেলে।”
পথিক তখন বুঝল, পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্ব মানুষ সে নয়, যার কাছে সম্পদ নেই। সবচেয়ে নিঃস্ব সে—যার ঘর আছে, কিন্তু ঘরে মায়া নেই; যার ভাই আছে, কিন্তু ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর মন নেই; যার বোন আছে, কিন্তু বোনের হৃদয়ে জায়গা নেই; যার সম্পদ আছে, কিন্তু বাবা-মায়ের স্মৃতির মূল্য বোঝার সময় নেই।
মানুষের জীবনে সম্পদের প্রয়োজন আছে, নিজের অধিকার বোঝার প্রয়োজন আছে, উত্তরাধিকারেরও প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই অধিকার যদি সম্পর্ককে গ্রাস করে, তবে সেই জয় আর জয় থাকে না। কারণ একজন বাবা-মা সন্তানদের জন্য শুধু জমি-জায়গা, বাড়িঘর কিংবা অর্থ রেখে যান না; তাঁরা রেখে যান একটি পরিবার, কিছু স্মৃতি, কিছু শিক্ষা এবং একে অপরের হাত ধরে থাকার দায়িত্ব। অথচ দুঃখের বিষয়, অনেক সময় উত্তরাধিকার ভাগ করতে গিয়ে আমরা সেই পরিবারটাকেই ভাগ করে ফেলি।
বৃক্ষটি বলল, “আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। কারণ প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতো করে জীবন বোঝে। কেউ অর্থকে বড় মনে করে, কেউ সম্পর্ককে। কেউ উত্তরাধিকার খোঁজে জমিতে, কেউ খোঁজে মানুষের মনে। আমি শুধু চাই, আমার ছায়ায় যারা বড় হয়েছে, তারা যেন একদিন বুঝতে পারে—একজন বড় ভাইয়ের দেওয়া ভালোবাসার হিসাব হয়তো কোনোদিন নেওয়া হয়নি, কিন্তু সেই ভালোবাসারও একটা হৃদয় ছিল। সেই হৃদয়ও কষ্ট পায়।”
পথিকের চোখ তখন ভারী হয়ে উঠল।
বৃক্ষটি আবার বলল, “আমি যদি কখনো চলে যাই, কেউ যেন না ভাবে আমি পরাজিত হয়ে চলে গেছি। কিছু মানুষ জায়গা ছেড়ে যায় পরাজিত হয়ে নয়—বরং সম্পর্কের শেষ অবশিষ্ট সম্মানটুকু বাঁচিয়ে রাখতে। আমি চলে যাব, কিন্তু কাউকে অভিশাপ দিয়ে যাব না। আমি শুধু চাইব, যারা আমার ছায়ায় বড় হয়েছে, তারা যেন একে অপরের জন্য ছায়া হয়ে থাকে।”
সন্ধ্যা নেমে এলো। পথিক চলে যাওয়ার আগে বৃদ্ধ বৃক্ষটির দিকে শেষবার তাকাল। বাতাসে তার পাতাগুলো নড়ছিল। মনে হচ্ছিল, সে যেন কাউকে অভিশাপ দিচ্ছে না—বরং দোয়া করছে।
হয়তো সে বলছে—“তোমরা সুখে থেকো। আমার দেওয়া ছায়া ভুলে গেলেও ক্ষতি নেই। শুধু একে অপরের ছায়া হয়ে থেকো। কারণ সম্পত্তি ভাগ করলে ঘর ছোট হয় না, কিন্তু হৃদয় ভাগ হয়ে গেলে সবচেয়ে বড় বাড়িটিও একদিন শূন্য হয়ে যায়।”
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই বৃদ্ধ বৃক্ষটি হয়তো শুধু এটুকুই বুঝেছিল—মানুষ উত্তরাধিকার হিসেবে শুধু জমি-জায়গা রেখে যায় না; আসলে রেখে যায় তার আচরণ, তার ত্যাগ, তার ভালোবাসা এবং তার সন্তানদের মধ্যে সম্পর্কের একটি ইতিহাস।
আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হলো—“আমরা একই ঘরে জন্মেছিলাম, একই মানুষের ভালোবাসায় বড় হয়েছিলাম; তাই পৃথিবীর কোনো সম্পদ যেন আমাদের একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়।”
হয়তো এটাই একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ। হয়তো কোনো বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্নও এটাই—তাঁরা চলে যাওয়ার পর সন্তানরা যেন তাঁদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির চেয়ে তাঁদের রেখে যাওয়া ভালোবাসাকে বড় করে দেখে।
কারণ একদিন সব হিসাবের খাতা বন্ধ হয়ে যাবে। জমির কাগজ, ব্যাংকের হিসাব, বাড়িঘর, টাকা-পয়সা—সবকিছুই একদিন অন্য কারও হাতে চলে যাবে। কিন্তু একজন মায়ের মুখ, একজন বাবার কণ্ঠ, শৈশবের উঠোন আর ভাই-বোনের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার স্মৃতি—এসবের কোনো উত্তরাধিকার সনদ হয় না।
তাই জীবনের শেষ সময়ে কোনো মানুষ যদি বলে—“আমি তোমাদের সম্পদ চাই না, আমি শুধু চাই তোমরা ভালো থেকো; আমি তোমাদের অংশ চাই না, আমি শুধু চাই আমার বাবা-মায়ের স্মৃতিটুকু অমলিন থাকুক; আমি তোমাদের কাছে কোনো হিসাব চাই না, শুধু চাই আমার নীরব ত্যাগটুকু একদিন অন্তত মানুষ হিসেবে বুঝতে পারো”—তাহলে সেটাকে দুর্বলতা ভাবা উচিত নয়।
কারণ কখনো কখনো সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটিই সবচেয়ে বেশি চুপ থাকে। সে জানে, প্রতিটি কথার উত্তর দিতে হয় না। প্রতিটি অপমানের প্রতিশোধ নিতে হয় না। প্রতিটি সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয় না। কিছু সম্পর্ককে দূরত্ব দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। আর কিছু স্মৃতিকে বুকের মধ্যে রেখে একদিন নীরবে চলে যেতে হয়।
হয়তো সেই বৃদ্ধ বৃক্ষটির মতো—যতদিন প্রয়োজন, ছায়া হয়ে থাকা; যতদিন দায়িত্ব, পাশে থাকা; আর যেদিন আর প্রয়োজন নেই, সেদিন কোনো অভিযোগ না করে দিগন্তের ওপারে চলে যাওয়া।
সঙ্গে শুধু থাকবে—একজন বাবার শেষ কথা, একজন মায়ের ভালোবাসা, কিছু শৈশবের স্মৃতি, আর এই বিশ্বাস—ভালোবাসা দিয়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, সম্পদ দিয়ে তার মূল্য কখনো মাপা যায় না।
হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কোনো জমির দলিল নয়, কোনো ব্যাংক হিসাব নয়, কোনো বাড়িঘরও নয়।
সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হলো—আপনজনকে আপন করে রাখার ক্ষমতা।
আর সেই উত্তরাধিকার যদি আমরা হারিয়ে ফেলি, তবে পৃথিবীর যত সম্পদই আমাদের হাতে থাকুক না কেন, ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই একদিন সেই বৃদ্ধ বৃক্ষটির মতো হয়ে যাব—দাঁড়িয়ে থাকব, ছায়া থাকবে, স্মৃতি থাকবে; কিন্তু পাশে থাকবে না আপনজনের উষ্ণতা।
তাই সময় থাকতে একে অপরের পাশে দাঁড়াই। বাবা-মা বেঁচে থাকতে তাঁদের মূল্য বুঝি। ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ককে সম্পত্তির চেয়ে বড় করি। কারণ মানুষ চলে গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ ভাগ করা যায়, কিন্তু চলে যাওয়া মানুষটির শূন্যতা কোনোদিন ভাগ করা যায় না।
বৃক্ষের ছায়া একদিন ফুরিয়ে যায়, কিন্তু সেই ছায়ায় পাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি কখনো ফুরোয় না।