গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার জরুন বাজার এলাকায় কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের কনজ্যুমার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চরমে। অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষ গত ৩ মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। বকেয়া পরিশোধের বারবার আশ্বাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো নোটিশ ছাড়াই কারখানার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই কারখানার ৩ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিচ্ছিলেন। প্রতিবারই ৫ তারিখ, ১০ তারিখ বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৩ মাসের বেতন বকেয়া থাকা অবস্থায় হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কবে কারখানা খুলবে বা বকেয়া কবে দেওয়া হবে, তার কোনো সঠিক তথ্য শ্রমিকরা পাচ্ছেন না।দীর্ঘদিন আয় বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা। ঘর ভাড়া দিতে না পেরে অনেককে বাড়িওয়ালার হুমকি শুনতে হচ্ছে। দোকানে বাকি বেড়ে যাওয়ায় বাকি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন দোকানিরা। সন্তানের লেখাপড়া ও পরিবারের চিকিৎসা খরচ চালাতে না পেরে দিশেহারা তারা।চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক শ্রমিক প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, “আমরা স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে আছি। মিডিয়ায় কথা বললে যদি চাকরি চলে যায়। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, আমাদের বকেয়া টাকাটা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেয়া কসমেটিকসের জরুন শাখার ম্যানেজারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।